Ticker

6/recent/ticker-posts

এমবিবিএস এমডি/MS (PG Medical Exams) – পোষ্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য কী করতে হবে:

 এমবিবিএস এমডি/MS (PG Medical Exams) – পোষ্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য কী করতে হবে:


 ১.পাঠ্যক্রমের প্রাথমিক শর্ত (Eligibility):

   এমবিবিএস শেষ করার পর, যদি আপনি পোষ্টগ্র্যাজুয়েট কোর্সে (MD/MS) ভর্তি হতে চান, তাহলে প্রথমে আপনাকে এমবিবিএস (Bachelor of Medicine and Bachelor of Surgery) ডিগ্রি সম্পূর্ণ করতে হবে। আপনার মডার্ন মেডিকেল সার্ভিস বা স্বাস্থ্যের সিস্টেমে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।


 ২. পোষ্টগ্র্যাজুয়েট পরীক্ষায় (PG Exam) অংশগ্রহণ:

   এমডি (MD) বা এমএস (MS) কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য আপনাকে সাধারণত NEET PG (National Eligibility cum Entrance Test for Postgraduate) নামক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। NEET PG পরীক্ষা প্রতি বছর আয়োজন করা হয় এবং এতে মেডিকেল ক্ষেত্রের বিভিন্ন বিষয়ে গভীর জ্ঞান, এবং ক্লিনিক্যাল দক্ষতার পরীক্ষা নেওয়া হয়।


   NEET PG:

     - পরীক্ষার ধরণ: MCQ (Multiple Choice Questions)

     - পরীক্ষার বিষয়: চিকিৎসা বিজ্ঞান, ক্লিনিক্যাল সায়েন্স, বেসিক সায়েন্স (যেমন অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি), এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়

     - Duration: 3 ঘণ্টা 30 মিনিট

     - সাধারণত পরীক্ষার সিলেবাস এমবিবিএস পাঠ্যক্রমের উপর ভিত্তি করে।


 ৩.পড়াশোনা কোথা থেকে করবেন?

   পোষ্টগ্র্যাজুয়েট কোর্সের জন্য আপনি প্রস্তুতি নিতে পারেন:

   

   প্রেসক্রিপশন বই ও রেফারেন্স বই: এমডি বা এমএস পরীক্ষার জন্য কিছু সাধারণ রেফারেন্স বই নিম্নরূপ:

     "Self-Assessment and Review" (Mudit Khanna)

     "Review of Pathology and Genetics" (Rajeev Garg)

     "PB's Practical Medicine" (P. R. Deb) – সাধারণ চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে

     "Clinical Surgery" (BS Bhatia) – এমএস (সার্জারি) পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য

     "Kumar & Clark’s Clinical Medicine" মেডিকেল ক্লিনিক্যাল সায়েন্সের জন্য

     

   অনলাইন কোর্স বা অ্যাপ্লিকেশন:আজকাল অনেক ওয়েবসাইট ও অ্যাপ্লিকেশন (যেমন PrepLadder, Marrow, NEET PG Super Speciality) পোষ্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পড়াশোনার ব্যবস্থা করে।

   মেডিকেল ইন্সটিটিউট: অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান (যেমন Aakash Institute, Allen, or even local coaching centers) PG মেডিকেল প্রস্তুতির জন্য কোর্স অফার করে।

 ৪.কিভাবে পড়াশোনা করবেন?

   সিলেবাস অনুসরণ করুন NEET PG পরীক্ষার জন্য সিলেবাস স্পষ্টভাবে প্রকাশিত থাকে। আপনি প্রতিটি অধ্যায়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিন এবং নিয়মিত রিভিশন করুন।

   টাইম ম্যানেজমেন্ট: সময়ের অভাবের কারণে নিয়মিত পড়াশোনা কঠিন হতে পারে, তাই সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

   মক টেস্ট দিন: নিয়মিত মক টেস্ট দেওয়া প্রয়োজনীয়, কারণ এটি আপনার প্রস্তুতির মূল্যায়ন এবং পরীক্ষার ধরন বুঝতে সাহায্য করবে।

   স্টাডি গ্রুপ:সহপাঠী বা বন্ধুদের সাথে একত্রে পড়াশোনা করার মাধ্যমে কিছু বিষয় দ্রুত এবং ভালোভাবে আয়ত্ত করা সম্ভব।


৫.কোর্স ও স্পেশালাইজেশন:

   এমডি/MS কোর্সে আপনি বিভিন্ন শাখায় ভর্তি হতে পারেন। কিছু জনপ্রিয় শাখা:

   MD (Doctor of Medicine):

     - মেডিসিন (General Medicine)

     - পেডিয়াট্রিক্স

     - গাইনোকোলজি

     - এনাস্থেসিয়া

     - প্যাথোলজি

     - রেডিওলজি


   - MS (Master of Surgery):

     - সার্জারি

     - অর্থোপেডিক্স

     - পেডিয়াট্রিক সার্জারি

     - ইউরোলজি

 ৬.পোষ্টগ্র্যাজুয়েট কোর্সের জনপ্রিয়তা:

   এমডি/MS কোর্সের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি কারণ এটি একটি উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রদান করে, যা ব্যক্তিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা সার্জন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে। এই কোর্সের মাধ্যমে চিকিৎসা ক্ষেত্রের অগ্রগতি, নতুন নতুন প্রযুক্তি ও চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি গভীর জ্ঞান অর্জন করা যায়।


 ৭.চাকরির মাইনে (Salary)

   এমডি বা এমএস সম্পন্ন করার পর চাকরির সুযোগ এবং মাইনে সম্পর্কে কিছু তথ্য:

   

   প্রথম দিকে মাইনে: সরকারি হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজে সাধারণত প্রথম দিকে প্রায় ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি মাসে মাইনে হতে পারে।

   প্রাইভেট সেক্টরে মাইনে যদি আপনি একটি প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালে কাজ করেন, তবে আপনার মাইনে পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, সাধারণত ১,৫০,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ টাকা প্রতি মাসে।

   বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা সার্জন হিসেবে: আপনার অভিজ্ঞতা এবং বিশেষায়িত দক্ষতার উপর ভিত্তি করে, আপনি একটি মাসিক আয় ৫,০০,০০০ টাকা বা তার বেশি পেতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্লিনিক বা হসপিটালেও কাজ করা যেতে পারে, যেখানে মাইনে অনেক বেশি।



   এমডি/MS কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম ও পরিকল্পনা প্রয়োজন। সময়মতো প্রস্তুতি নিলে এবং সঠিকভাবে চেষ্টা করলে এই পরীক্ষার জন্য সফল হওয়া সম্ভব। একবার সফল হলে, একটি সম্মানজনক এবং উচ্চ আয়ের চাকরি পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই বৃদ্ধি পায়।

Post a Comment

0 Comments